দ্বৈত কর ব্যবস্থা প্রত্যাহার চায় ডিসিসিআই

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। এর মধ্যে দ্বৈত কর ব্যবস্থা প্রত্যাহার ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা সভায় ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ এ দাবি জানান।

তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘‌পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে হবে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দ্বৈত কর ব্যবস্থা প্রত্যাহার ও এর প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ।’

তিনি বলেন, ‘‌ব্যবসায় লাভ-ক্ষতি রয়েছে। যেসব কোম্পানি পুঁজিবাজার থেকে মূলধন উত্তোলন করেছে সেগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে। দেশের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন টু জিডিপি রেশিও এখনো ২০ শতাংশের নিচে। সমান অর্থনীতির অনেক দেশে এটি ৪০-৫০ শতাংশের বেশি।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের (এসএমই) অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। বর্তমানে সরকারের যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) দুই লাখের বেশি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৩৬০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত। তাই সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’

আলোচনা সভায় ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‌পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত হতে পারেনি। তবে আশার বিষয় হলো অন্তর্বর্তী সরকার প্রথমবারের মতো পুঁজিবাজারে গভীর মনোযোগ দিয়েছে। এবারের বাজেটে পুঁজিবাজারবান্ধব কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে লেনদেনের ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) কমানো, মার্চেন্ট ব্যাংকের কর হ্রাস এবং তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কর ব্যবধান বাড়ানো।’

তিন আরো বলেন, ‘‌বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এরই মধ্যে সিসি অ্যাকাউন্টের সুদসংক্রান্ত সমাধান ও বিও হিসাব নবায়ন ফি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বাজারে শৃঙ্খলা আনতে সংস্থাটি আগের চেয়ে সক্রিয়। আগে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো অনেক সময় অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ করেছে। এখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন চলছে এবং ভালো কোম্পানিকে দ্রুত বাজারে আনতে গ্রিন চ্যানেল ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ডিএসই ও ডিসিসিআই উভয় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে পুঁজিবাজারকে আরো শক্তিশালী ও টেকসই করার লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালু রাখতে পারে।’

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি সহজ করা সম্ভব। বেসরকারি খাতের প্রায় ৭৫ শতাংশই এসএমই-নির্ভর। তাই এ খাতকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ খাত থেকে পুঁজিবাজারে অধিক পরিমাণ বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

সভায় ডিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. সেলিম সোলাইমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী, ডিএসইর পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সৈয়দ হাম্মাদুল করীম, মো. শাকিল রিজভী, ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আসাদুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও